নির্যাতিতাদের কারও বয়স ছিল ১০ আবার কারও ১৭। মোট ৩৩ নাবালিকাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতির বিরূদ্ধে। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত। ওই দম্পতি ২০১০ সাল থেকে টানা ১০ বছর ধরে দুটি জায়গা জুড়ে এই কাজ চালাচ্ছিলেন। নাবালিকাদের শারিরীক অত্যাচার ও যৌন হেনস্তা করে তাদের ছবি ও ভিডিও প্রচুর টাকার বিনিময়ে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে পর্ণগ্রাফি ওয়েবসাইটে বিক্রি করতেন ওই দম্পতি। বান্দা এবং চিত্রকুট , এই দুটি জায়গা থেকে এই ঘৃণ্য কাজ পরিচালনা করতেন ওই দম্পতি। ২০২০ সালে সিবিআই ওই দম্পতি সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশু এবং নাবালিকাদের যৌনহেনস্থার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ওই দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নির্যাতিতাদের ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। এছাড়া অপরাধীদের বাড়ি থেকে যে নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে সেগুলি নির্যাতিতাদের পরিবারগুলোর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে।

তদন্তকারীদের দাবি, নাবালিকাদের উপর শারীরিক অত্যাচারও চালানো হতো। অনেক নাবালিকার যৌনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে। এছাড়াও আক্রান্তদের অনেকেই কয়েক বছর ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তদন্তকারীদের কথায়, অত্যাচারের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে কারো চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো সেই মানসিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার করে ওই দম্পতিকে। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও তাদের নেটওয়ার্কের জাল অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। যে ঘরে অত্যাচার চালানো হতো, সেই ঘরে নানারকম ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস উদ্ধার হয়। তার মধ্যে নানা ভিডিও এবং ছবি উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সেই ছবি এবং ভিডিও ডার্ক ওয়েবে প্রচুর টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত ওই দম্পতি। বিদেশেও এই ছবি এবং ভিডিও পাঠানো হতো।
New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar
Feb 21, 2026






