শিল্প সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে উঠবে মেগা দুর্গা অঙ্গন, যেখানে থাকবে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ, এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় “এই দুর্গা অঙ্গন বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

সোমবার নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় ধর্মীয় আইকন মা দুর্গার নিত্য পূজার জন্য এই স্থায়ী প্রাঙ্গণ অর্থাৎ দূর্গা অঙ্গনটি নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-১ এ নির্মিত হচ্ছে। নিউটাউন ইকো পার্কের কাছে ১৭.২৮ একর জমিতে তৈরি হচ্ছে এটি। যার চারপাশে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা ও প্রতিদিন ১ লক্ষ ভক্তের সমাগমের আয়োজন থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন “এই দুর্গা অঙ্গন জাতিসংঘের শিক্ষা বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার দুর্গাপূজাকে মানবতার অধরা সংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসবেন।” তিনি আরো বলেন “মূল স্থানটি ছিল মাত্র ১২ একর। কিন্তু আমরা এটিকে ১৭ একর জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহত্তর এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে গাড়ি পার্কিং ,দোকান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আচার-অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা যায়। এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন, যা প্রতিদিন এক লক্ষ দর্শনার্থীর আতিথেয়তা করার জন্য যথেষ্ট বড়।” জগন্নাথ মন্দির কিভাবে দীঘার অর্থনীতিকে ব্যাপক উন্নত করেছে তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন “২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের দিক থেকে বাংলা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। ২০২৬ সালে আমরা এক নম্বরে থাকবো। দুর্গা অঙ্গন স্থানীয় শিল্প ও পর্যটনকে উৎসাহিত করবে এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে পরিণত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তাঁর কথায় “স্থানীয়দের জন্য বাংলার সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতা জীবন্ত হয়ে উঠবে। এবং লক্ষ লক্ষ পর্যটকদের জন্য এটি বাংলার ঐতিহ্য এবং ঐক্যের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করবে।”
দুর্গা অঙ্গন টি ২ লক্ষ বর্গফুট জুড়ে থাকবে, যার একটি উঠোন থাকবে। যেখানে ১০০০ জন লোক বসতে পারবে। মূল গর্ভগৃহ টি ৫৪ মিটার উচ্চতায় উন্নীত হবে, যেখানে ১০৮ টি দেব-দেবীর মূর্তি এবং ৬৪ টি সিংহ মূর্তি থাকবে। লক্ষী ও সরস্বতীর জন্য পৃথক মন্দিরও নির্মিত হবে। বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকবে এই মন্দির, দেওয়া যাবে পুজো। এছাড়াও মন্দির চত্বরে তৈরি হবে দোকান, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আলাদা প্রসাদ তৈরির ঘর এবং আলাদা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘরও থাকবে। প্রায় ২৬২ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে এই মন্দির।
New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar






