গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানি গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ পথে নামলেও ক্রমেই তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেই। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেইকে ক্ষমতা চ্যুত করতে বিক্ষোভ দেখান হাজারো মানুষ। সেখানে নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার খামেনেই প্রথম তার দেশের কয়েক হাজার মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনের সংবাদদাতা দাবি করেছে ইরানের বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৩০৯০। তাদের মধ্যে ২৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী এবং বাকিরা সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সেই দাবি উড়িয়ে দিচ্ছে। ইরান থেকে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬ হাজার। অধিকাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিবাদের মাথায় গুলি করা হয়েছে বলে দাবি নতুন রিপোর্টে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দা টাইমস ইরানের প্রত্যক্ষদর্শী মূলত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানি মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬,৫০০। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ যখন হয়েছেন। ইরানি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছায় সেখানে বিনামূল্যে পরিষেবা দিচ্ছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিংক। সেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেই মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইরানি চিকিৎসক আমীর পারাস্তা। তাঁর দাবি, বিদ্রোহ ঠেকাতে সামরিক অস্ত্র প্রয়োগ করছে তেহরান। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন। ১৬ টি জরুরী বিভাগের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে পারাস্তা দাবী করেছেন, সরকারি দমন নীতির কারণে সাড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারাও রয়েছেন। ৭০০ থেকে ১০০০ মানুষ চোখ হারিয়েছেন। তেহরানের একটি হাসপাতালে চোখে ক্ষত নিয়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন অন্তত সাত হাজার মানুষ। এছাড়া রক্তের অভাবেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতাল গুলি রোগে তে উপড়ে পড়ছে হাসপাতালের কর্মী অনেক জায়গায় চিকিৎসা করে নিজেদের রক্তদান করে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায় “ওরা বলেছিল, যতক্ষণ না বিক্ষোভ থামাচ্ছে, ওরা হত্যা চালিয়ে যাবে। সেটাই করা হচ্ছে, এটা গণহত্যা।
New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar
Jan 18, 2026






