যুদ্ধ হবে অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব পড়েছে তেমনি অভাব ঘটেছিল এলপিজি গ্যাসের। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে সাধারণ মানুষদের। বুকিং করার পরেও এলপিজি গ্যাস মিলছিল না বলেও দাবি করেছিল জনগণ। তবে এবার সেই সংকট কাটার মুখে। যুদ্ধদীর্ণ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে এসে পৌছালো আরও একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ। সোমবার ৫৪,০০০ টন এলপিজি নিয়ে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে এলপিজি ট্যাংকার শিবালিক।

যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সাথে এলপিজি নিয়েও সমস্যা শুরু হয়েছিল। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরই প্রণালীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে আটকে পড়েছিল এলপিজি বহনকারী জাহাজগুলি। পরে ইরানের সরকারের সঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আলোচনায় সমাধান মেলে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি ভারতকে ইরানের বন্ধু বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। দুটি ভারতীয় জাহাজ অর্থাৎ শিবালিক এবং নন্দাকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে শিবালিক ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি দূর করতে শীঘ্রই দ্বিতীয় জাহাজটিও ভারতে এসে পৌঁছাবে। বড় মাপের কোন অচলাবস্থা তৈরি না হলে এখন আর নতুন করে গ্যাসের যোগানে সমস্যা হবে না বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক এলপিজি বুকিং এবং ডেলিভারিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই বিধি সামান্য শিথিল হয় শনিবার। সোমবার নতুন করে নির্দেশিকা পৌঁছেছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান এক মাসে মোট যতটা বাণিজ্যিক এলপিজি নেয়, তার ২০ শতাংশ তাকে ডেলিভারি দিতে হবে। অর্থাৎ কারো যদি মাসে ১০০ কেজি এলপিজি প্রয়োজন হয়, আপাতত সেই বাণিজ্যিক গ্রাহক ২০ কেজি এলপিজি পাবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রেই বিধিনিষেধ আরো কিছুটা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, হরমুজ প্রণালী ভারতের কাছে এখন আর প্রতিবন্ধকতা নয়।
New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar
Mar 17, 2026






