স্ট্রোক এমন একটি ভয়াবহ অসুখ, যা আগে থেকে ধরতে পারা সহজ নয়। কিছু উপসর্গ যদিও শরীরে ফুটে ওঠে, তবে তা বুঝে সতর্ক হওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এই আধুনিক যুগে এমন যন্ত্র বেরিয়েছে, যা দিয়ে বাড়িতেই মেপে নেওয়া যায় সুগার বা প্রেসার। তবে এবার এমনই একটি অভিনব যন্ত্র বার করেছে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং কেক স্কুল অফ মেডিসিন এর গবেষকরা। যা দিয়ে ধরতে পারা যাবে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি। কোন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বা শরীরের সুচ ফোটানোরও কোন দরকার নেই। শুধু হেডফোনের মত এই লেজার হেডব্যান্ডটি মাথায় পরে নিতে হবে। তাতেই ধরা পড়বে মস্তিষ্কের ভিতরে কোন গোলমাল বাঁধছে কিনা। এই হেড ব্যান্ডটি নন-ইনভেসিভ। অর্থাৎ শরীরে কোন ছিদ্র বা কাঁটা ছেঁড়া না করেই এটি পড়া যাবে। হেডফোনের মত পরে নিলেই ধরা পড়বে মস্তিষ্কের গোলযোগ। এই হেডব্যান্ডটিতে এমন সেন্সর বসানো আছে যা মস্তিষ্কের ভেতরের কোষ ও স্নায়ুর ভেতরে নিরন্তর ঘটে চলা বদলগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। মস্তিষ্কের ভেতরে কোথাও জমাট বাঁধছে কিনা, তাও ধরা পড়বে এই যন্ত্রে। খরচ সাপেক্ষ এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের বিকল্প হিসেবেও এটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

কিভাবে কাজ করে ?
ডিভাইসটি মূলত ইনফ্রারেড লেজার রশ্মির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মধ্যে লাগানো থাকে সেন্সর। এই সেন্সরের মধ্য দিয়ে লেজার রশ্মি মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকবে। থাকবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা যা লেজার রশ্মির গতি দেখবে ও তথ্য সংগ্রহ করবে। লেজার রশ্মির ধরন দেখেই বোঝা যাবে মস্তিষ্কের রক্তনালীর ভেতরে রক্ত চলাচল ঠিক আছে কিনা, কোথাও রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি আছে কিনা। গবেষকরা জানিয়েছেন, হেডব্যান্ডটি মাথায় পরে কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ রাখতে হবে। যাতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব তৈরি হয়। ওই সময় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের গতি বাড়বে। আর সেই গতি দেখে যন্ত্রটি তার কাজ শুরু করবে। সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের রক্তনালী নমনীয় হয়, রক্ত চলাচল দ্রুত হতে পারে। কিন্তু ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকলে রক্তনালী শক্ত হয়ে যাবে এবং রক্ত প্রবাহের গতিতেও বদল আসবে সেই বদলই লক্ষ্য করবে লেজার হেডব্যান্ড।
Bengali Times। Edited by: Priti Karmakar
Apr 05, 2026


