পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিবেশের প্রভাব পড়েছে পৃথিবী জুড়ে। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে জনগণ। পন্যের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজ্য জুড়ে দেখা দিচ্ছে এলপিজি নিয়ে সমস্যা। কোথাও কোথাও গ্যাস বুক করার পরও মিলছে না সিলিন্ডার , আবার কোথাও বুকিং করাই যাচ্ছে না গ্যাস। গ্যাসের অভাবে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। ফলে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে তাঁদের। বিভিন্ন জায়গায় রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং স্কুলে মিড ডে মিল রান্না করতে হচ্ছে কাঠের উনুনে। এলপিজির এই সার্বিক উদ্বেগ নিয়ে শুক্রবার সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, বুক করার আড়াই দিনের মাথায় গ্যাস মিলবে। তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি করছে তৃণমূল। এলপিজি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, কিছু মানুষ অযথা আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তারা আদতে দেশের ক্ষতি করছেন। তিনি দাবি করেছিলেন , সরকার যথাসম্ভব পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার গুলিকে গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে তৎপর হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে এই সংকটের সময়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ করে তৃণমূল।

তৃণমূলের বিক্ষোভে ছিলেন মহুয়া মৈত্র, মিতালী বাগ, জুন মালিয়া, দোলা সেন, শতাব্দি রায়, মালা রায় ও মৌসুম নূর। মিতালী বাগ জানান , “যেভাবে হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাস গায়েব হয়ে গেল, তাতে মানুষের হেঁসেলে নাভিশ্বাস উঠছে। মিড ডে মিল থেকে শুরু করে বাড়ির রান্না সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসছেন না। তাই আমরা সংসদের বাইরে প্রতিবাদ করছি। এর জন্য যতদূর যেতে হয় যাব, মানুষ তো না খেয়ে বাঁচতে পারবে না।” আড়াই দিনে গ্যাস সরবরাহের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। তিনি বলেন, “দেশে এলপিজির সংকট চলছে। মানুষ আতঙ্কিত! গ্যাসের জন্য এখন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। সরকার বলছে আড়াই দিনে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ করছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখুন পরিস্থিতি কি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী গত পাঁচদিন সংসদে আসেননি। তিনি কেরলে ভোটের প্রচার করে চলেছেন।” শুক্রবার সকাল থেকেই তৃণমূলের মহিলা সাংসদেরা লোকসভার বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি এলপিজি নিয়ে কেন্দ্র যা বলছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোন মিল নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছিল, গ্যাস সরবরাহের সময়ে কোন পরিবর্তন করা হয়নি। বুকিং এর পর আড়াই দিনের মধ্যেই রান্নার গ্যাস মিলবে। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, আদতে তা হচ্ছে না। বাস্তবে ৮ থেকে ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না।
New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar
Mar 13, 2026






