Home বিশ্ব “এবার তোমাকে যেতে হবে”  – মাথায় তিলক কেটে হরিষকে শেষ বিদায় বাবা-মার! 

“এবার তোমাকে যেতে হবে”  – মাথায় তিলক কেটে হরিষকে শেষ বিদায় বাবা-মার! 

3
0

তেরো বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম অবশেষে শেষ হতে চলেছে। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্র ছাত্রের সংগ্রাম এবার শেষের মুখে। শেষ হতে চলেছে কৃত্রিমভাবে জীবন দীর্ঘায়িত করা। ভারতের ইতিহাসে প্রথম ফলিত হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় – ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’। গাজিয়াবাদের এক শান্ত গলিতে নিথর হয়ে শুয়ে আছেন হরিশ। এটাই হয়তো শেষ দেখা। গন্তব্য দিল্লি এইমস। যেখানে চিকিৎসকরা ধীরে ধীরে খুলে দেবেন তার কৃত্রিম প্রাণবায়ু বা লাইফ সাপোর্ট। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মাত্র ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে হরিশ রানার অন্তহীন বেদনার চিত্র। পাশে বসে থাকা মায়ের মুখে গভীর শোকের ছাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে দীর্ঘ ১৩ বছরের লড়াই। ব্রহ্মকুমারীর এক সদস্য হরিশের কপালে তিলক পরিয়ে দিচ্ছেন এবং তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন, “সবাইকে ক্ষমা করে দাও, সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। এবার যাওয়ার সময় হয়েছে, ঠিক আছে?” 

হরিশ রানার সংগ্রাম –

ব্রহ্মকুমারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হরিশ রানা। ২০১৩ সালে চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য তাকে ট্রাকিওস্টমি টিউব এবং খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনস্টমি টিউবের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। ব্রহ্মকুমারী সংস্থায় তাকে ইউথানেশিয়ার লড়াইয়ে আইনি সহায়তা পেতে সাহায্য করেছে। বছরের পর চিকিৎসার পরেও কোন উন্নতির আশা না দেখায় , অবশেষে তার বাবা-মা আদালতে ইচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানান। 

image 106

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় –

‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’- সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় ভারতের ইতিহাসে প্রথম। এর আগে ১৯৭৩ সালে মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের নার্স অরুনা শানবাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুর অধিকার প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রায় চার দশক কোমায় থাকার পর ২০১৫ সালে অরুনার মৃত্যু হয়। হরিশ রানার ঘটনা ভারতে প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার অনুমতি পাওয়ার প্রথম ঘটনা। হরিশ রানার মামলায় বিচারপতি জেবি পারদেওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিশ্বনাথনের বেঞ্চ আবেগঘন মন্তব্যে তার বাবা-মায়ের প্রশংসা করেছেন। 

সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য –

আদালত বলেছে, “কাউকে ভালোবাসার অর্থ হলো শুধুমাত্র আনন্দের সময়ই নয় বরং তাদের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ও পাশে থাকা”। আদালত জানিয়েছে, তেরো বছর ধরে হরিশ রানা, যে যন্ত্রনা ভোগ করেছেন তা বর্ণনাতীত। আদালত জানায়, “এই সিদ্ধান্ত কোন যুক্তি বা সাধারন বুদ্ধি দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এটি ভালোবাসা, ক্ষতি, চিকিৎসা এবং করুণার বিষয়। আমাদের এই নির্দেশ মৃত্যু বেছে নেওয়ার জন্য নয়, বরং কৃত্রিমভাবে জীবন দীর্ঘায়িত না করার জন্য।”

AVvXsEj7gcxuLk4yDDdqMRFzdOGQcalv Os9YOjCI H7Kvnnv0dfyaiqcbAD9m0RhHnUrBZJ fOAQ2k2qW nOVHN9k3dpkQVMdsfB FarwyvlFaxwu PbuVi3ft6cHv6WXixSH04zX883nSNF wm1Jlal28nKUiHRI1mP1okAzb jx5 CCaCei9fciPP1zxd0Y=w416 h277

New Bengal Times। Edited by: Priti Karmakar 

Mar 17, 2026 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here