রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় অর্থনীতিবিদ পরাকাল প্রভাকর বাংলার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এসআইআর -কে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এসআইআর প্রক্রিয়া ব্যাপক হারে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এই অর্থনীতিবিদ জোর দিয়ে বলেন যে, এসআইআর দেশে দুই শ্রেণীর মানুষ তৈরি করছে, এক শ্রেণীর ভোটাধিকার আছে, অন্য শ্রেণীর নেই। তিনি বলেন, যদিও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিতরা নাগরিকই থাকেন, কিন্তু তাদের নাগরিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত করা হয়। প্রভাকর আরও বলেন, ভারতের সংস্কৃতি ও সমাজের সম্পূর্ণ রূপান্তর অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। তিনি ভোটাধিকার হারানো ভোটারদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সমিতি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি ‘এডুকেশনিস্টস ফোরাম’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব এবং অখিল স্বামীও যৌক্তিক অসঙ্গতির নামে এসআইআর তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফোরামের সদস্য ও অধ্যাপক ওম প্রকাশ মিশ্র বলেন, “তথাকথিত যৌক্তিক অসংগতিগুলোর কোন যুক্তি ছিল না। যদি অসংগতি থেকেও থাকে, তবে সেগুলো যৌক্তিক হয় কি করে?” যাদব বলেন, এসআইআর হল বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ ‘প্রতিবন্ধকতা অপসারণ’ প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “আমি বলেছিলাম, বাংলাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য বিহার একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। আমি ঠিক এটাই আশঙ্কা করছিলাম। যদি তাদের (বিজেপি) বাংলায় জিততে হয় তবে এর ভোটার তালিকা ছোট করা প্রয়োজন। এসআইআর হল সেটাই।” তিনি দাবি করেন যৌক্তিক অসংগতির কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে, এবং বাদ পড়া ভোটারদের ৬৫ শতাংশই মুসলিম। তিনি আরও বলেন, নামের বানানে ভুল, নামের মাঝে ফাকা স্থান বা বয়সের পার্থক্য ভুল থাকার কারণেও অনেকে ভোটাধিকার হারিয়েছেন। তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ” নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি অভিযোগ করেছে যে বাংলায় অচিহ্নিত এলাকার সংখ্যা খুবই কম ছিল। কৃত্রিমভাবে কম। আমি দেখেছি বাংলায় এর হার ছিল ৪.৫ শতাংশ। ছত্রিশগড়ে অ চিহ্নিত এলাকার অনুপাত কত ছিল মধ্যপ্রদেশে ছিল ৩.৫% এবং রাজস্থানী ১.৬%। তাঁরা নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানান। প্রশান্ত ভূষণ বলেন, বিচারকার্য শুধুমাত্র বাংলাতেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে কেন্দ্রকে নাগরিকদের বিদ্রোহের মুখোমুখি হতে হতে পারে, কারণ এই নাগরিকরাই তাদের পক্ষে শাসন করার জন্য সরকার নির্বাচিত করে।
Bengali Times। Edited by: Priti Karmakar
Apr 13, 2026






