মঙ্গলবার বিজেপি ঘোষণা করেছে যে নীতিশ কুমারের কাছ থেকে বিহারের শাসনের দায়িত্ব নেবেন সম্রাট চৌধুরী। দলের এই প্রবীণ নেতা এবং বর্তমানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী আগামী ১৫ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্রাট চৌধুরী বিহারের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা শকুনি চৌধুরী তারাপুর থেকে ছয় বারের বিধায়ক ছিলেন এবং মা পার্বতী দেবীও বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঐতিহ্যই তাঁকে অল্প বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। তিনি ১৯৯৯ সালে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং দ্রুত শীর্ষ নেতৃত্বে উন্নীত হন। ২০০০ সালে তিনি খাগারিয়ার পার্বট্টা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। রাবড়ি দেবীর নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হন।

সম্রাট চৌধুরীর কর্মজীবন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পালা বদলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। আরজেডিতে বেশ কয়েক বছর কাটানোর পর তিনি ২০১৪ সালে জনতা দল (ইউনাইটেড) এ যোগ দেন এবং রাম মাঞ্জির নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, যেখানে তার দ্রুত উত্থান ঘটে। তিনি রাজ্য সহ-সভাপতির মতো সংগঠনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং পরে ২০২৩ সালে দলের বিহার ইউনিটের সভাপতি হন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। সম্রাট চৌধুরীকে বিহারের বিজেপির অন্যতম বিশিষ্ট ওবিসি মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে নির্বাচনী রাজনীতিতে জাতিগত গতিপ্রকৃতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন প্রধান কৌশলবিদ ও প্রচারক হিসেবে তিনি দলের জনসংযোগ ও সাংগঠনিক সম্প্রসারণ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তবে, তার রাজনৈতিক জীবন বিতর্কহীন নয়। বিরোধী নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে বয়স সংক্রান্ত নির্বাচনী হলফনামায় অসংগতির অভিযোগ এনেছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ১৯৯৫ সালের একটি হত্যা মামলা সংক্রান্ত অভিযোগেও তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন। যেটিতে তাঁর বাবার পাশাপাশি তাঁর নাম উল্লেখ ছিল। বিহারের রাজনীতিতে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হলেও, রাজনৈতিক বিতর্কে এই বিষয়গুলো ক্রমাগত উত্থাপিত হতে থাকে।
Bengali Times। Edited by: Priti Karmakar
Apr 14, 2026






