ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন কারচুপির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্বেগের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাংলায় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘন্টার পর ঘন্টা একটি স্ট্রং রুমের ভেতরে কাটান এবং তাঁর দল ধর্মঘট পালন করে। বহুল আলোচিত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতেই রাজ্যে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরই তৃণমূল অভিযোগ করছে যে, দলের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বাক্স খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রংরুমের ভেতরে প্রায় চার ঘন্টা কাটানোর পর তিনি রাত ১২:০৭ নাগাদ এক উদ্ধত স্বরে বেরিয়ে আসেন এবং গণনা প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ এর চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “উপর তলায় হয় প্রার্থী অথবা একজন এজেন্ট থাকতে পারবেন। আমি গণমাধ্যমের জন্য একটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোট রক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রথমে আমাকে ঢুকতে দেয়নি। গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপির কোন পরিকল্পনা থাকলে তা বরদাস্ত করা হবে না।”

ভবানীপুরে ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী এজেন্ট ইভিএম স্ট্রংরুমে কঠোর নজরদারি করছেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা ঢুকেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ভবানীপুর কেন্দ্র সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সম্মানিত ভোটার সম্প্রদায় কে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্থাৎ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া শ্রীদেবীকে কোন প্রকার অন্যায় সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ তিনি স্ট্রংরুম চত্বরে ছিলেন, আমার নির্বাচনী এজেন্ট, এডভোকেট সূর্যনীল দাস ব্যক্তিগতভাবে সেখান থেকে তাঁকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছিলেন, যাতে তিনি কোন অসৎ পন্থা অবলম্বন করতে না পারেন।” তিনি আরও বলেন, “সে যতই চেষ্টা করুক না কেন, নিয়মের বাইরে কোন কাজে লিপ্ত হতে পারেনি।”অন্যদিকে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন,” দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত স্ট্রং রুমের বাইরে উপস্থিত ছিলেন, হঠাৎ একটি ইমেইল পাঠিয়ে জানানো হয় যে বিকেল চারটেই স্ট্রং রুমটি আবার খোলা হবে। আমরা আমাদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায় যে তারা চলে গেছে। তারপর আমরা দ্রুত সেখানে ছুটে আসি, এখন আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।”
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতা তাপস রায় তৃণমূল দলের করা অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ” এগুলো সবই নিছক গুজব, যা টিএমসি এখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার জন্য ছড়াচ্ছে, কারণ তারা নিজেরাই ভীত। আমিও স্ট্রংরুম দেখতে এখানে এসেছি, টিএমসি মিথ্যা ছড়াচ্ছে।”
Bengali Times। Edited by: Priti Karmakar
May 01, 2026






